GuidePedia

0
সকাল থেকেই চলছে উৎসব। আত্মীয় স্বজনে উপচে পড়ছে বাড়ি। সাউন্ড বক্সে বাজছে রোমান্টিক গান। ছোট ছেলেমেয়ের ছুটাছুটি, চিৎকারে মুখরিত পুরো পাড়া। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে উৎসবের আয়োজন।


দুপুরে বরের গাড়িবহর এসে পৌঁছে কনের দুয়ারে। পড়ে যায় হৈ চৈ। বাড়ির উঠোনে বিশাল প্যান্ডেলে বসেন বরযাত্রীরা। চলে অ্যাপায়ন। এরপর দুই পক্ষের লোকজনের দুপুরের ভোজনপর্বও শেষ হয়।

এর মধ্যে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে পড়ানোর কাজ শুরু করেন কাজী। রেজিস্ট্রিসহ সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন তিনি। এরপর ছেলে পক্ষের কাজ শেষে যান মেয়ে পক্ষের কাছে। কিন্তু একি! কনে তো কোনো কথাই বলছে না। তার কণ্ঠে কবুল উচ্চারণ শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সবাই। কিন্তু না কাজীর শত অনুরোধ আর বাড়ির লোকের শত চাপাচাপিতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। এভাবে কেটে যায় আড়াই ঘণ্টা।

বাড়ির লোকজনের মধ্যে সন্দেহের দানা বাঁধতে থাকে। চলতে থাকে নানা কানাঘুষা। এক সময় বেরিয়ে আসে আসল তথ্য। কনে লিপি আকতার (১৯) মন দিয়ে বসে আছেন অন্য এক তরুণকে। তার সেই মন আর কবুলে ফেরানো যাচ্ছে না। অবশেষে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় বর মিন্নত আলীর (২৩)। ভেঙে যায় বিয়ে। বর মাথা নিচু করে বেরিয়ে যান কনের বাড়ি থেকে। মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন কনের বাবা মা।

শুক্রবার দুপুরে আড়াইহাজারের বিশনন্দী ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এলাকার লোকজনের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে বিয়ে ভাঙার এ কথা।   

বিয়ে পড়াতে ব্যর্থ হয়ে খালি হাতে ফেরা কাজী  বলেন, পূর্বপাড়া এলাকার ইসমাইল মিয়ার মেয়ে লিপি আকতারের সঙ্গে একই ইউনিয়নের তেতিয়াগ্রামের এলাহী মিয়ার ছেলে মিন্নত আলীর বিয়ে ঠিক হয় শুক্রবার দুপুরে। বিয়ের সব আয়োজনও করা হয় আগে থেকেই। আপ্যায়ন, ভোজন পর্ব শেষে দুই পক্ষের সম্মতিতে শুরু হয় বিয়ে পড়ানো।

কাজী বলেন, ছেলে পক্ষের কাজ শেষে কনের কাছে যাওয়ার পরেই দেখা দেয় বিপত্তি। কনে ‘কবুল’ পড়তে রাজি নয়। আড়াই ঘণ্টা চেষ্টার পরও তার মুখ দিয়ে কবুল বলানো যায়নি। পরে জানা গেছে, অন্য এক ছেলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক। এ কারণেই বিয়েতে রাজি নয়। পরে বিয়ে ভেঙে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 
Top