লেমিছের পুরো নাম লিহাত আরা লেমিছ। সাম্প্রতিক সময়ের ‘অগ্নি’, ‘দবির সাহেবের সংসার’, ‘অন্তরঙ্গ’, ‘প্রেমের কাজল’, ‘আজব প্রেম’ সহ বেশকিছু ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন। মাতাচ্ছেন দেশ বিদেশের স্টেজ। অনেকেই তাকে প্লেব্যাক কন্যা বলে ডাকেন। তবে সংগীতে তার হাতেখড়ি মা নাসরিন সুলতানার মাধ্যমে। লেমিছ এ বিষয়ে বলেন, ‘আমার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকায়। সেখানে থাকাবস্থায় মূলত মার হাতে আমার গানের হাতেখড়ি। এরপর সেখানে ওস্তাদ মজিদ চৌধুরী এবং ঢাকায় এসে ওস্তাদ সঞ্জীব দে’র কাছে তালিম নিতে শুরু করি।’ লেমিছের বাবা এটি এম বোরহান উদ্দিন একসময় রবীন্দ্র-নজরুল সংগীত গাইতেন। বাবার ব্যবসার কাজের সূত্রে ২০০৪ সালে ঢাকায় আসেন
লেমিছ ও তার পরিবার। এরপর তো অল্প সময়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন চলচ্চিত্র অঙ্গণে। ইমন সাহার মিউজিকে সর্বপ্রথম সুযোগ ঘটে তার চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকের। এরপর রাজু পরিচালিত ‘ভুল’ ছবিতে একটি লালনের গান করেন। গায়কি কণ্ঠের জাদুতে সম্প্রতি ‘অগ্নি’, ‘আই ডোন্ট কেয়ার’, ‘দবির সাহেবের সংসার’, ‘অন্তরঙ্গ’, ‘প্রেমের কাজল’, ‘আজব প্রেম’ সহ বেশকিছু চলচ্চিত্রে টানা গান করেছেন। বলতে গেলে প্লেব্যাকে বেশ ব্যস্ত সময় কাটছে তার। চলচ্চিত্রে গানের বাইরে ২০০৯ সালে লেমিছের প্রথম একক ‘লেমিছ পার্ট ওয়ান’ বাজারে আসে। এ অ্যালবামের ‘রঙিন স্বপ্ন’, ‘সবাই আমায়’ শিরোনামের গানগুলো শ্রোতারা পছন্দ করেন। পরবর্তী সময়ে ডিজে রাহাত ফিচারিং ও জাহিদ সিক্রেট নামক দুটি মিশ্র অ্যালবামেও গান করেন। তবে বর্তমানে নিজের দ্বিতীয় একক অ্যালবাম প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। এরইমধ্যে এ অ্যালবামের ৪-৫টি গানের কাজ শেষ হয়েছে। আর এ অ্যালবামের সংগীত পরিচালনা করছেন ইমন সাহা, মাসুম (সোলস), শফিক তুহিনসহ আরো অনেকে। এ অ্যালবামে কি ধরনের গান থাকছে জানতে চাইলে লেমিছ বলেন, ‘আমি শ্রোতাদের ভিন্ন আঙ্গিকের একটি অ্যালবাম উপহার দিতে চাই। যেখানে ক্ল্যাসিক ফিউশন, সফট রক, মেলো রকসহ সব ধরনের গান থাকবে। আমি অনেকদিন পর নিজের একক নিয়ে হাজির হবো। তাই আমার দিক থেকে শতভাগ ভালোকিছু দেবার চেষ্টা করছি।’ কবে অ্যালবামটি বাজারে আসবে জানতে চাইলে মিষ্টি হেসে বললেন, এ বছরে শ্রোতাদের অ্যালবামটি উপহার দিতে চাই। আর আমার মিউজিক নিয়ে দেশের বাইরে পড়াশুনা করারও ইচ্ছে আছে। পরিবারে বাবা মা’র পাশাপাশি সংগীতের জন্য বড় বোন লিউডারও সহযোগিতা পান তিনি। কারণ বড় বোনও অনেকদিন ধরে গান করে আসছেন। তাই পরিবার থেকে গানের জন্য শতভাগ সহযোগিতা পান। বাণিজ্য বিভাগ থেকে এইচ এস সি পাশ করার পর এখনও কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হননি লেমিছ। তাই সবশেষে জানতে চাইলাম খুব শিগগিরই কি দেশের বাইরে উড়াল দিবেন? জবাবে লেমিছ বললেন, ‘কবে যাবো জানি না। তবে হাতে যেসব কাজ আছে, সেগুলো শেষ করে উড়ালটা দিতে চাই। তবে যাই করি না কেন সংগীত নিয়েই থাকতে চাই। সংগীতই আমার প্রাণ।’

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন