ঘটনাস্থল ইংল্যান্ড। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই সৎবাবা ধর্ষণ করে টেরিকে। মায়ের চোখে ধরাও পড়ে ব্যাপারটি। কিন্তু মা নিজের মেয়েকে অভিযুক্ত করে যে, সে তার সৎ বাবাকে প্রলুব্ধ করে সেক্স উপভোগ করেছে।
মায়ের এ হেন অভিযোগে একেবারেই ভেঙ্গে পড়ে টেরি। সে স্বাভাবিকভাবেই আশা করেছিল মা তার বিপদে পাশে দাঁড়াবে। কিন্তু বিস্ময়কর ও দুর্ভাগ্যজনকভাবে মা সিনথিয়া নিজের পার্টনারের পাশে এসে দাঁড়ায়।
টেরি ডাকেটের পরিবারেকে বাইরে থেকে একটি আদর্শ সুখি পরিবারই মনে হতো। কিন্তু সৎ বাবা পিটার দিনের পর দিন টেরি ও তার ছোটভাই পলের ওপর নির্যাতন চালাত। মা সিনথিয়া প্রথমে ব্যাপারটি জানতেন না। এক সময় মা জানতে পারলেও সে তার পার্টনারের পক্ষ নেয়।
সন্তানরা হয়ে পড়ে দিন দিন অসহায়। সৎ বাবার নিষ্ঠুর নির্যাতন নীরবে সহ্য করত দু ভাইবোন।
হাল্কা পাতলা গড়নের স্বর্ণকেশী সিনথিয়া ডাকেট প্রথম দর্শনেই মুগ্ধ করত সবাইকে। প্রতিবেশীদের কাছে সে ছিল একজন আদর্শ মা। পার্টনার পিটার বন্ড ওনবার্জারকে নিয়ে সিনথিয়া সুখেই দিন কাটাচ্ছে-এমনই ছিল বাইরের লোকজনের ধারণা। তারা জানত না কি নিদারুন যন্ত্রণার মধ্যে চলছে দুটি সন্তানের জীবন। সন্তানদের প্রতি পিটার নিষ্ঠুর নির্যাতন করলেও সিনথিয়া তা দেখেও না দেখার ভান করত। এর ফলে সন্তানদের মন থেকে ক্রমশ দূরে সরে যেতে থাকে মা সিনথিয়া।
টেরির বয়স এখন ৪৪। দু সন্তানের জননী। একটি কোম্পানির সফল ডাইরেক্টর হয়েও সে তার শৈশবের সেই দুঃসহ বেদনার কথা ভুলতে পারেনি। বিশেষ করে সৎ বাবার কাছে ধর্ষিত হওয়ার পর মাকে পাশে পায় না। উল্টা মা তাকে দোষারোপ করে ধর্ষণে প্রলুব্ধ করার অভিযোগ এনে। তখন তার মনে হয়েছে এই মুহূর্ত থেকে তার মা মৃত।
পলের বয়স এখন ৪০। পেশায় আইটি বিশেষজ্ঞ। চার সন্তানের জনক। দুই ভাইবোন মিলে শৈশব কৈশোরের সেই দুঃসহ স্মৃতি তুলে ধরেছে ‘স্টোলেন ভয়েচেস’ নামক গ্রন্থে। শেষপর্যন্ত তারা তাদের মা সিনথিয়াকে (৬১) ক্ষমা করে দিয়েছে। আসলে মা সব সময় আতেঙ্ক থাকত তার জীবন সঙ্গী পিটারকে হারানোর ভয়ে।
এক ধরণের নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি থেকে সন্তানের ওপর নির্যাতনেও সে নীরব থাকত। জীবনের এই পর্যায়ে এসে তার ভুল বুঝতে পেরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। দুই সন্তান তাকে ক্ষমা করলে তাদের বুক থেকেও নেমে যায় চাপা ক্ষোভের পাহাড়সমান বেদনা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন