আবেগের শারীরিক মানচিত্র দেখেছেন কি?

আমরা মাঝে মাঝেই বিভিন্ন ধরনের মানচিত্র দেখি। বিভিন্ন দেশ থেকে শুরু করে বিশ্ব মানচিত্র বা নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার জীববৈচিত্র্য স
ম্পর্কিত মানচিত্র প্রতিনিয়তই দেখছি। তবে এবার জানা গেল ভিন্ন এক মানচিত্রের কথা।সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ফিনল্যান্ডের অ্যাল্টো ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক চমকপ্রদ কিছু মানচিত্র তৈরি করেছেন। আবেগের শারীরিক মানচিত্র!তারা মানুষের মনের সাধারণ ও খুব বেশি ঘটে এরকম কিছু আবেগ ও অনুভূতি ব্যক্তির শরীরের কোন অংশের উপর কতটুকু কাজ করে তার কিছু ভিজ্যুয়াল ম্যাপ তৈরি করেছেন।সুইডেন, ফিনল্যান্ড ও তাইওয়ান থেকে নেওয়া প্রায় ৭০০ ব্যক্তির উপর এই গবেষণা চালানো হয়। প্রত্যেককে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন আবেগের সৃষ্টি করে তাদের শারীরিক কার্যকলাপের দিকে খেয়াল রাখতে বলা হয়।তারপর তাদের মানুষের সম্পর্ণ দেহের কিছু ছবি দেওয়া হয়, যেখানে তারা বিভিন্ন রঙের সাহায্যে নিজের শরীরের বিভিন্ন অংশের কার্যকলাপের উঠানামা চিত্রায়িত করে।এই গবেষণায় যে বিষয়টি সবার উপরে উঠে এসেছে তা গবেষণা দলের অন্যতম সদস্য অ্যাল্টো ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক লাওরি নুমিনমার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়।তিনি বলেন, আবেগ শুধু আমাদের মানসিক অবস্থা-ই নয়, শারীরিক অবস্থাও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এভাবেই তারা (আবেগগুলো) আমাদের বিভিন্ন বিপদের হাত থেকে বাঁচাতে প্রস্তুত করে যাতে আমরা সময় মতো ব্যবস্থা নিতে পারি। এছাড়া, আমাদের পরিবেশে বিদ্যমান বিভিন্ন আনন্দদায়ক সামাজিক যোগাযোগেও এগুলো আমাদের সাহায্য করে। সুতরাং প্রতিটি আবেগের জন্য যে নির্দিষ্ট শারীরিক প্রতিক্রিয়া থাকে, যদি সেগুলো শরীরে কোনোভাবে তৈরি হয়, তাহলে সেই শারীরিক ক্রিয়াগুলো আমাদের নির্দিষ্ট আবেগ কেন্দ্রকে উত্তেজিত করতে পারে।গবেষণার কাজটি সহজে বোঝার জন্য উদাহরণস্বরূপ হ্যাপিনেস এর কথা বলা যায়। চিত্রে আপনারা দেখতে পারছেন, সুখানুভূতিতে মানুষের শরীরের প্রায় সব অংশই বেশ উত্তেজনা দেখায়। কিন্তু মুখমণ্ডল,মস্তিস্ক ও বুকের অংশ (যেখানে হৃদপিণ্ড ও ফুসফুস থাকে) সেখানে কার্যকলাপ বেশি দেখা যাচ্ছে। তার পাশে স্যাডনেসএর বিপরীত অবস্থা দেখা যায়। পুরো শরীরের মধ্যে শুধু মাথার ও বুকের অংশটা কিছু কাজ করছে। এভাবে প্রতিটা ছবি পাশের স্কেলের কালার অনুযায়ী ব্যাখ্যা করা যায়।এই আবিষ্কারের ফলে কী লাভ হলো সেটাও তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, এই গবেষণার ফলে আমরা খুব সহজেই জানতে পারবো আবেগের কাজ এবং তার শারীরিক ভিত্তি আসলে কী। এছাড়া এই গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল আমাদের বিভিন্ন ইমোশনাল ডিসঅর্ডার বোঝাতে এবং সেগুলো নির্ণয় করতে সাহায্য করব ইউরোপিয়ান রিসার্স কাউন্সিল, দ্য অ্যাকাডেমি অব ফিনল্যান্ড ও অ্যাল্টো ইউনিভার্সিটির সম্মিলিত অর্থায়নে এই অসাধারণ গবেষণা কর্মটি সফলভাবে শেষ হয় এবং গত ৩১ ডিসেম্বর বিভিন্ন সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত হয়।
লেখক: মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম শিপু
নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ।
ফটো ক্রেডিট: অ্যাল্টো ইউনিভার্সিটি
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন