শীতে কানাডা বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু জায়গায় তুষারপাত নতুন ঘটনা নয়, কিন্তু তাই বলে এমনটাও যে হতে পারে তা কস্মিনকালেও ভাবতে পারেননি দুই দেশের বাসিন্দারা। ভাবছেন কী এমন হয়েছে? আসুন তা হলে, ঠাণ্ডার মাত্রাটা একটু বুঝে নেওয়া যাক।
ঘড়ি ধরে পাঁচ মিনিটও লাগছে না ডিম জমে যেতে। শুনতে যতই আশ্চর্য লাগুক না কেন, ঘরের বাইরে এসে একটা ডিম ভেঙে সসপ্যানে রেখে দিলে মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই জমে গিয়ে পাথরের মতো শক্ত হয়ে যাচ্ছে ডিম।
সসপ্যানে ইদানীং বরফ ‘রান্না’ করা যাচ্ছে আমেরিকার বেশ কিছু জায়গায়। ফুটন্ত পানি সসপ্যানে করে নিয়ে গিয়ে ঘরের বাইরে এনে সাবধানে ছুড়ে দিলে দেখা যাচ্ছে, ঝুরঝুরে বরফের গুঁড়ো মাটিতে ঝরে পড়ছে।
বন্ধ রাখা হয়েছে স্কি ফিল্ড। অতি শীতলতার এর চেয়ে বড় উদাহরণ আর কী হতে পারে? মিনেসোটার একাধিক স্কি ফিল্ড বন্ধ রাখতে হয়েছে নিরাপত্তার কারণে।
প্রাণ বাঁচাতে হাজতে ফিরে এসেছে পলাতক কয়েদিও। চুরির দায়ে ছয় বছরের জেল হয়েছিল রবার্ট ভিকের। সুযোগ বুঝে চম্পট দিয়েছিল রবার্ট। কিন্তু আবহাওয়ার যা অবস্থা তাতে তার মনে হয়েছে হাজতেই নিরাপদে থাকবে সে। তাই মানে মানে ফিরেছে জেলেই।
এ বারের শীত কাঁপন ধরিয়েছে মেরু ভল্লুকের শরীরেও। শিকাগো চিড়িয়াখানার বাসিন্দা অ্যানানাও কাঁপছে ঠাণ্ডায়। পরিচয় করিয়ে দিই, অ্যানানা মেরু ভল্লু। জন্ম থেকেই চিড়িয়াখানায় থাকা অ্যানানা গায়ে মোটা লোম থাকা সত্ত্বেও বাগে আনতে পারেনি ঠাণ্ডাকে।
প্রবল চাপে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরাও। আগুন লাগলে কী করবেন তা নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় তাঁরা। পানি তো বটেই, এমনকি আগুন নেভানোর যাবতীয় রাসায়নিকও তো জমে গিয়েছে পাত্রের মধ্যেই। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে, এ বার কীভাবে তার মোকাবিলা করবেন? ভেবেই আকুল মার্কিন মুলুকের ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের দল।
অকাজে তো দূরস্থান, দরকারি কাজেও বাইরে বেরোতে চাইছেন না মার্কিনিরা। তার চেয়ে ঘরে থাকা ফ্রিজে বসবাস করাই শ্রেয় মনে করছেন তাঁরা। অনেকেই চাইছেন, মঙ্গল গ্রহে চলে যেতে। কারণ, সেখানকার তাপমাত্রাও এই মুহূর্তে আমেরিকার চেয়ে বেশি। -
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন