GuidePedia

0
প্রকৃতির নির্মম ঘাতক ‘চোরাবালি’

প্রকৃতিতে রয়েছে হাজারো সম্পদ। তবে এই সম্পদের সাথে সাথে আবার প্রকৃতিতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভয়। যদি বলেন ঝড়, জলোচ্ছ্বাস বা ভূমিকম্পের কথা তবে এগুলো কিন্তু প্রকৃতির বিপদেরই অংশ। এই সকল বিপদ ছাড়াও প্রকৃতিতে আছে কিছু নির্মম বিপদ। যার মধ্যে একটি অন্যতম হচ্ছে চোরাবালি।
চোখ ধাঁধানো কিছু স্থান

১৯৬৪ সালের কথা, কলেজ ছাত্র দুই বন্ধু জ্যাক আর ফ্রেড দক্ষিণ ফ্লোরিডার অকিচবি হ্রদের চারপাশের জলাজমির মধ্যে পরাশ্রয়ী উদ্ভিদ খুঁজছিল।হঠাৎ জ্যাকের পা নরম বালিতে আটকে যায়। সে তার অপর বন্ধুকে সতর্ক করতে বলছিল, সে যেন আগে না আসে। কিন্তু সে নিজে ধীরে ধীরে সেই চোরাবালির মধ্যে ডুবে যাচ্ছিল। তার বন্ধু ফ্রেড তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সবই বৃথা হল। কিছুক্ষণের মধ্যে চোরাবালি জ্যাককে গিলে ফেললো। এটি কোনও নিছক কল্প-কাহিনী নয়, এটি একটি সত্য ঘটনা।

অবাক হলেও সত্য যে, চোরাবালি এমনই এক ভয়ংকর জিনিস যা শুধু মানুষ নয়, জন্তু-জানোয়ার, বাস, ট্রাক এমনকি আস্ত রেলের বগি পর্যন্ত গিলে ফেলতে পারে। ১৮৭৫ সালের দিকে কলোরাডোর একটি ট্রেন লাইন চ্যুত হয়ে চোরাবালিতে নিমজ্জিত হয়েছিল এবং ট্রেনটি ৫০ ফুট গভীরে চলে গিয়েছিল বলে জানা যায়।

সাধারণত যখন বালি, কাদা বা নুড়ি গর্ভস্থ পানির প্রবাহের সান্নিধ্যে আসে, সেই বালি বা নুড়ির দানাগুলোর মধ্যে যে ঘর্ষণ শক্তি থাকে তা কম হয়ে যায়, আর সেই বালি বা মাটি ভার সহ্য করতে পারে না। এ ধরনের ব্যাপার আমরা সমুদ্র সৈকতে দেখতে পাই। সমুদ্র ধারের বালিতে যদি কেউ দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে খানিকক্ষণ পর দেখা যাবে যে ধীরে ধীরে তার পা বালির ভেতর বসে যাচ্ছে। এটাও এক ধরনের ছোটখাটো চোরাবালি। তবে এ ধরনের চোরাবালির গভীরতা মাত্র কয়েক ইঞ্চি হয়। তাই শুধু আমাদের পায়ের পাতা ডুবে। তবে যে সকল স্থানে এর গভীরতা বেশী সেসকল স্থান সমূহ খুবই ভয়ংকর।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

 
Top