ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে হজরত সুরেশ্বরী (রা.)-এর মাদারীপুরের ৫০ গ্রামের অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে মঙ্গলবার প্রথম রোজা রাখছেন। সুরেশ্বর দায়রা শরিফের প্রধান গদিনশীন পীর ও আন্তর্জাতিক চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি আলহাজ খাজা শাহ সুফি সৈয়দ নূরে আক্তার হোসাইন জানান, সোমবার ৮ জুলাই সৌদি আরবসহ মধ্যেপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চাঁদ দেখা যাওয়ায় আজ মঙ্গলবার ওইসব দেশের মুসলমানরা প্রথম রোজা রাখছেন। তাই সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দায়রা শরিফের প্রতিষ্ঠাতা হজরত জানশরিফ শাহ সুরেশ্বরী (রা.)-এর মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলাসহ বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমান আজ ৯ জুলাই মঙ্গলবার প্রথম রোজা পালন করছেন। সৈয়দ নূরে আক্তার হোসাইন এ প্রতিনিধিকে এ তথ্য জানান।
জলবায়ু বা আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার কারণে বাংলাদেশে খালি চোখে চাঁদ দেখা যায়নি। তিনি বলেন, ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যেখানে সৌদি আরবের সব নিয়মনীতি অনুসরণ করে ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করে থাকেন, যেখানে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের ব্যবধান মাত্র ৩ ঘণ্টা, সেখানে ১/২ দিন পরে রোজা রাখা বা ঈদ পালন করা মোটেও বাঞ্ছনীয় নয়। তিনি পবিত্র কোরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলামের সব নিয়মনীতি পালন করার অনুরোধ জানান। তিনি আরও জানান, সুরেশ্বর দায়রা শরিফের প্রতিষ্ঠাতা হজরত জান শরিফ শাহ সুরেশ্বরী (রা.)-এর অনুসারীরা ১৪২ বৎসর পূর্ব থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন এবং ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আযহা পালন করে আসছেন।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের মির্জাখীল অনুসারীদের আজ রোজা : দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, পটিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী উপজেলার প্রায় ২০ গ্রামে অনেক মানুষ রোজা রাখার জন্য সোমবার সেহেরি খাবেন। দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম সুফি সাধক হজরত আলহাজ মাওলানা আরিফুল হাই (রা.)-এর মুরিদান সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারীরা দীর্ঘ ২০০ বছর পূর্ব থেকে সৌদি আরবের সময়ানুযায়ী একদিন আগে থেকে রোজা এবং ঈদ পালন করে থাকেন। মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারী চন্দনাইশ উপজেলার নগরপাড়া, কাঞ্চনাবাদ, আফজল নগর (ছুফিবাড়ি), কাঞ্চননগর, বৈলতলী, বরমা ও বরকল, সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল, সোনাকানিয়া, গারাঙ্গিয়া ও গাটিয়াডাঙ্গা, লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ও চরম্বা, বাঁশখালী উপজেলার জালিয়াপাড়া, ছনুয়া, মক্ষিরচর ও কালিপুর পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও, বাহুলী ও ভেল্লাপাড়াসহ ২০ গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ আজ মঙ্গলবার রোজা পালন করবেন।
এ ব্যাপারে মির্জাখীল দরবার শরিফের গদিনশীন পীর মাওলানা আবদুল হামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সোমবার সেহেরি খাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা যেহেতু সৌদি আরবের দিনক্ষণ অনুসরণ করে রোজা রাখি সে কারণে খবর নিয়ে জানতে পারি সৌদি আরবের লোকেরা আজ (সোমবার) মধ্য রাতে সেহেরি খাবেন সুতরাং আমরাও রোজা পালনের জন্য আজ মধ্যরাতে সেহেরি খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন