১. এ তথ্যটি হয়তো প্রায় অনেকেই জানেন। অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস ছিলেন পালকপুত্র এবং সিরিয়ান বংশোদ্ভুত। তার সিরিয়ান বাবার নাম ছিল আবদুল ফাতাহ জান্দালি এবং মায়ের নাম ছিল জোনা শেবিল। তবে জবস তার জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত তার পালক বাবা-মাকেই নিজের বাবা-মা হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং বিশ্বাস করতেন তারাই তার প্রকৃত অভিভাবক।
২. অ্যাপলের প্রথম নির্মিত কম্পিউটার অ্যাপল ১-এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬৬৬ ডলার ৬৬ সেন্ট। খ্রিস্টান ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী ৬৬৬-কে শয়তানের নাম্বার মনে করে হয়ে থাকে। তবে বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণই কাকতালীয়। স্টিভ ওজনিয়াক একই নম্বর পরপর ব্যবহার করতে পছন্দ করতেন বলেই তিনি অ্যাপল ১-এর এমন দাম নির্ধারণ করেছিলেন।
৩. অ্যাপল তাদের প্রতিটি নির্মিত পণ্য জাহাজের বদলে প্লেনে রপ্তানি করে। এর ফলে খরচ বেশি হলেও প্রতিষ্ঠানটির পণ্য খুব দ্রুত রপ্তানি হয়। প্রতিষ্ঠানটির আকাশপথে পণ্য রপ্তানিকারক হচ্ছে ক্যাথে প্যাসিফিক।
৪. অ্যাপলের ম্যাকিনটশ কম্পিউটারটিকে অ্যাপলের নিজস্ব নামই দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তৈরির সময় সাংকেতিক নাম হিসেবে ম্যাকিনটশ নামটি ব্যবহার করা হচ্ছিল। জবস অবশ্য সাংকেতিক নাম দিতে চেয়েছিলেন বাইসাইকেল এবং সে চেষ্টাও করেছিলেন। পরবর্তীতে সাংকেতিক নামটিই থেকে যায় এবং সে নামেই কম্পিউটারটি বাজারে আসে। এখানে জানিয়ে রাখা প্রয়োজন যে ম্যাকিনটশ নামটি দিয়েছিলেন জেফ রাস্কিন।
৫. অ্যাপলের পণ্যগুলোর ছবি দেখে মনে হয়, তা কম্পিউটারে তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু আদতে ওগুলো হাজারো ছবি সেলাই করে তৈরি করা হয়। অ্যাপলের বিজ্ঞাপন বা সাইটে যে পণ্যগুলোর ছবি দেখা যায়, তা কম্পিউটারের বদলে ওভাবেই তৈরি করা হয়।
৬. অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ ওজনিয়াক ১৯৭৬ সালে স্টিভ জবসের সঙ্গে অ্যাপল প্রতিষ্ঠা করলেও সক্রিয়ভাবে এখন আর অ্যাপলে নেই। তবুও ওজনিয়াককে অ্যাপলের একজন কর্মকর্তা হিসেবেই ধরা হয়। আর এ জন্য তিনি বছরে এক লাখ ২০ হাজার ডলার পারিশ্রমিকও পান।
৭. স্টিভ জবসের মৃত্যুর আগে শেষ কথাটি ছিল ‘ওহ ওয়াও. ওহ ওয়াও. ওহ ওয়াও’। তিনি সে সময় তার বোন মোনা সিম্পসনের পেছনে দাঁড়ানো পরিবারের সদস্যদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। এ জন্য মোনা সিম্পসন পরবর্তীতে ভাইয়ের মৃত্যু সম্পর্কে বলেছিলেন, “হঠাৎ করে মৃত্যু হয়নি স্টিভের, স্টিভ মৃত্যুকে অর্জন করে নিয়েছিলেন।”
৮. টেক জায়ান্ট অ্যাপল মূলত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তিনজন ব্যক্তির মাধ্যমে। তাদের দুজনকে আজ সবাই চেনে। কিন্তু তৃতীয় যে ব্যক্তিটি ছিলেন তাকে হয়তো অনেকেই চেনেন না। তৃতীয় এ প্রতিষ্ঠাতার নাম ছিল রোনাল্ড ওয়েন। ওয়েনই প্রথম অ্যাপলের লোগো, অংশীদারি চুক্তিপত্র এবং অ্যাপল ১-এর ম্যানুয়াল তৈরি করেছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের উপর আস্থা না রাখতে পেরে নিজের ১০ শতাংশ শেয়ার মাত্র আটশ’ ডলারে বিক্রি করে দিয়েছিলেন দুই সপ্তাহ পরেই। ওয়েনের বিক্রি করে দেওয়া সে দশ শতাংশ শেয়ারের বাজারদর এখন তিন হাজার পাঁচশ কোটি ডলারেরও বেশি!
৯. অ্যাপলের ডিজাইনার জনি আইভের কারণেই প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পণ্য সাদা রংয়ে পাওয়া যায়। প্রথম যখন সাদা রং ব্যবহারের কথা উঠেছিল স্টিভ জবস বিষয়টিতে রাজি ছিলেন না। পরে স্যার জনি আইভ জবসকে সাদার মধ্যে শেড যা ‘মুন গ্রে’ নামে পরিচিত সে রংটি দেখান এবং পণ্যে এ রংটি ব্যবহারের ব্যাপারে তাকে রাজি করান।
১০. অ্যাপল পণ্যের বিষয়ে যেমন সচেতন, পণ্যের প্যাকেজিংয়ের ব্যাপারেও ঠিক সে রকমই সচেতন। এমনকি প্যাকেজিংয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটির প্রধান দপ্তরে একটি গোপন বিভাগও রয়েছে। সেখানে প্যাকেজিং ডিজাইনাররা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করে বোঝার চেষ্টা করেন, কীভাবে প্যাকেট করলে পণ্যটি ক্রেতাকে আকৃষ্ট করবে। সবসময়েই পণ্যের জন্য একাধিক প্যাকেটও ডিজাইন করে পরীক্ষা করা হয়।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন