রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসা থেকে টিভি অভিনেত্রী মিতা নূরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১০৪ নম্বর রোডের ১৬ নম্বর বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, সকাল ৭টার দিকে ঘুম থেকে উঠে পরিবারের সদস্যরা ড্রইং রূমে মিতা নূরের মরদেহ ঝুলতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এছাড়া সিআইডি ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে, তবে আলামত পরীক্ষা এবং ময়না তদন্ত করে সঠিক তথ্য জানা যাবে।
তবে মিতা নূরের বাবা অভিযোগ করেছেন, মিতা নূরের স্বামী তাকে মানসিক অত্যাচার করতো। এ কারণে এর আগে আরও দু’বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে মিতা নূর।
তবে, এ বিষয়ে মিতা নূরের স্বামী সাংবাদিকদের সঙ্গে কোন কথা বলতে রাজি হননি।
১৯৮৯ সালের ০৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সাপ্তাহিক নাটক ‘সাগর সেচা সাধ’ নাটকে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে একজন অভিনেত্রী হিসেবে মিতা নূরের অভিষেক হয়।
১৯৯২ সালে আফজাল হোসেনের নির্দেশনায় অলিম্পিক ব্যাটারির বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে ব্যাপক তারকাখ্যাতি পান।
রবিবার পর্যন্ত তিনি ধারাবাহিক নাটক ‘উত্তরাধিকার’ এর শুটিং করছিলেন। মাই টিভিতে ‘চটপটি আড্ডা’ শিরোনামের একটি রান্নার অনুষ্ঠান নিয়মিত উপস্থাপনা করা শুরু করেছিলেন তিনি।
‘কুলসন নানা পদের ইফতার’ নামক আরেকটি অনুষ্ঠানেরও উপস্থাপনা করেছিলেন তিনি। এ অনুষ্ঠানের প্রথম ও শেষপর্বে তাকে উপস্থাপনা করতে দেখা যাবে।
অন্যদিকে, স্কয়ার গ্রুপের সৌজন্যে ‘জিরো ক্যাল’ নামের রান্নার অনুষ্ঠানে তাকে মৌটুসী বিশ্বাসের অতিথি হিসেবে দেখা যাবে।
এশিয়ান টিভিতে তার অভিনীত ইদ্রিস হায়দার পরিচালিত প্রচার চলতি ডেইলি সোপ ‘সেকেন্ড ইনিংস’-এ লন্ডন ফেরত একজন তরুণীর ভূমিকায় অভিনয় করছিলেন মিতা নূর।
নাটকে তার অসাধারণ অভিনয় দর্শকের কাছে ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পায়। তার প্রচার চলতি অন্য ধারাবাহিক নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে এটিএন বাংলায় ধারাবাহিক নাটক ‘কানামাছি ভো ভো’, ‘স্কুল মাস্টার’, ‘কুসুম কলি’, ‘ভোমরাদহ কলেজ’।
নাটকে অভিনয়, বিজ্ঞাপনে মডেলিং ছাড়াও ২০১১ সালে নাটক নির্দেশনায় আসেন তিনি। খন্দকার হাফিজ রেদুর রচনায় ‘চৌঙ্গালি’ নামের খণ্ড নাটক নির্মাণের মধ্য দিয়ে একজন নির্দেশক হিসেবে নাম লেখান।
একজন অভিনেত্রী হিসেবে বিগত প্রায় ২৩ বছর সফলতার সঙ্গে কাজ করেছেন মিতা নূর।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন